लिव लव लाफ...
প্রবন্ধ. 02 মে, ২019 তারিখে প্রকাশিত

ভারতে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে ধারনা

The role of Awareness

সচেতনতার ভূমিকা

মানসিক অসুখের বোঝা ক্রমশই বেড়ে চলেছে। মানুষের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যাকে ঘিরে চিন্তার প্রবণতা ধীর গতিতে বেড়ে চলার ফলে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে, সমাজে এবং অর্থনীতির উপর এর প্রভাবকে অবহেলা করা খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতে মোট জনসংখ্যার ২০শতাংশ মানুষ কোনও না কোনও মানসিক অসুখে আক্রান্ত হয়। এদের মধ্যে মাত্র ১০ থেকে ১২ শতাংশ মানুষ তাদের অসুস্থতা দূর করার জন্য চিকিৎসার আশ্রয় নেয় (স্রোত)। সমাজে যাতে প্রত্যেকটি মানুষ তাদের মানসিক সমস্যা দূর করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সাহায্য পায় তার জন্য দরকার মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে আমাদের সচেতনতা বাড়ানো এবং একে ঘিরে থাকা কলঙ্ককে দূর করা। মানসিক অসুস্থতার প্রসঙ্গে কলঙ্ক এবং সচেতনতা- এই দুটি বিষয় বারবার সামনে আসে। এই প্রবন্ধে আমরা সচেতনতা বৃদ্ধির গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করব।


সচেতনতা বলতে কী বোঝায়?

কোনও বিশেষ পরিস্থিতি বা ঘটনা সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান বা ধারণাই হল সচেতনতা। ২০১৮ সালে ''দি লাইভ লাভ লাফ ফাউন্ডেশন (টিএলএলএলএফ)''-এর 'হাও ইন্ডিয়া পারসিভস্‌ মেন্টাল হেলথ্‌' নামক জাতীয় সমীক্ষায় সচেতনতা বলতে বোঝানো হয়েছে মানসিক স্বাস্থ্য, তার সমস্যা এবং সেই সংক্রান্ত চিকিৎসার পদ্ধতি সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান অর্জনকে।


মানসিক অসুস্থতা সম্পর্কে কিছু সচেতনতা থাকা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

  • একজন মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সাহায্য না নেওয়ার অন্যতম একটি প্রধান কারণ হল সে তার মনের অসুখের লক্ষণগুলিকে যথাযথভাবে বুঝতেই পারে না, যেমন- অবসাদগ্রস্ত একজন মানুষ তার সমস্যার নির্দিষ্ট লক্ষণ অর্থাৎ বিষণ্ণ মনোভাব এবং অতিরিক্ত ঘুমকে কুঁড়েমি বলে মনে করে।
  • ভিন্ন ভিন্ন মানসিক অসুখের সমস্যার বিভিন্ন লক্ষণগুলো সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান থাকলে আমরা আমাদের চারপাশে থাকা মানসিকভাবে অসুস্থ মানুষের দুর্দশাগুলোর প্রতি নজর রাখতে পারব।
  • সচেতনতা থাকলে আমরা আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারব যে মানসিকভাবে অসুস্থ একজন মানুষ ঠিক কী অবস্থার মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করে এবং সমস্যা দূর করার জন্য তার ঠিক কেমন সাহায্যের প্রয়োজন তা সঠিকভাবে নির্বাচনও করতে পারব।
  • নিজে সচেতন হলে আরও অন্যান্য অনেক মানুষকে সচেতন হতে সাহায্য করা যায়। আর এভাবেই সমাজের বৃহত্তর অংশের মানুষ নিজেদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে যত্নবান হয়ে উঠতে পারে। মানসিক অসুস্থতার বিষয়ে বিশদে জানলে এবং তার প্রভাব সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান থাকলে সাধারণ মানুষের মধ্যে একজন অসুস্থ ব্যক্তিকে তার সমস্যার হাত থেকে রেহাই দেওয়ার জন্য সমানুভূতি গড়ে ওঠে, যা সমাজ থেকে মানসিক অসুখ দূর করতে অনেকাংশে সাহায্য করে।

এলএলএলএফ-এর সমীক্ষা থেকে কয়েকটি প্রাসঙ্গিক তথ্য পাওয়া গিয়েছে। সেগুলো হল

  • এই সমীক্ষায় প্রায় অর্ধেক উত্তরদাতা নিজেদের 'স্বাস্থ্যবান', 'সুখী বা আনন্দিত' এবং 'সুস্থ মানসিক স্বাস্থ্য'-এর অধিকারী হিসেবে দাবী করেছেন।
  • ভারতের বিভিন্ন শহরে মানসিক অসুস্থতার বিষয়ে মানুষের সচেতনতার হার পরীক্ষা করতে গিয়ে ৮৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারীর কাছ থেকে বিভিন্ন মানসিক অসুখের নাম ও তার লক্ষণগুলো জানার জন্য কিছু প্রশ্ন করা হয়েছিল যেমন- 'মানসিক অসুস্থতা বলতে কি বোঝায়? কীভাবে আপনারা একজন মানুষের মানসিক অসুস্থতাকে ব্যাখ্যা করবেন?'
  • যখন তাদের মানসিক অসুস্থতার বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছিল, তখন তাদের মধ্যে অধিকাংশই গুরুতর মানসিক অসুখের লক্ষণ ও উপসর্গগুলোর (অর্ধেকের একটু বেশি সংখ্যক মানুষ জানিয়েছে যে মানসিকভাবে অসুস্থ মানুষের লক্ষণ হল যে তারা “বিড়বিড় করে বা নিজেদের সঙ্গে কথা বলে”; প্রায় এক-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের “শুচিবায়ু” রয়েছে বলে মনে করেন) এবং অসুখের বর্ণনা দিয়েছিলেন (অর্ধেক উত্তরদাতা ‘মানসিক রোগের’ সাথে ‘অবসাদ’ কে; এবং ১০ জনের মধ্যে ৩ জন এই প্রশ্নের উত্তরে ‘অ্যালঝাইমার্স’ নির্বাচন করেছিলেন)। মানসিক অসুস্থতার বিষয়ে এমনই কিছু সচেতনতার পরিচয় পাওয়া গিয়েছে।
  • অন্যদিকে অর্ধেক উত্তরদাতা একজন মানসিকভাবে অসুস্থ মানুষকে ‘মানসিক প্রতিবন্ধী’ এবং ‘'বিকৃতবুদ্ধি বা উন্মত্ত/পাগল/বোকা’ বলে বর্ণনা করেছেন। এই পরিভাষাগুলো আবার কলঙ্ককেও নির্দেশ করে।
  • মাত্র ১৭ শতাংশ উত্তরদাতা মানসিকভাবে অসুস্থ মানুষের সম্পর্কে কিছু সঠিক তথ্য জানেন বলে দাবী করেছেন। এই ১৭ শতাংশ-এর মধ্যেও অর্ধেক মানুষ বলেছেন যে তাদের পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তির মানসিক অসুস্থতার কথা তারা জানেন এবং মাত্র ২ শতাংশ উত্তরদাতা স্বীকার করেছেন যে তারা কোনও না কোনও মানসিক অসুখে আক্রান্ত হয়েছেন।
  • ৯২ শতাংশ উত্তরদাতা বিশ্বাস করেন যে মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা করানো উচিত। এছাড়াও এই সমীক্ষায় অংশ নেওয়া সংখ্যাগোরিষ্ঠ মানুষ মনে করেন যে ওষুধের দ্বারা মানসিক অসুখের চিকিৎসা সম্ভব। অন্যদিকে, ৬৩ শতাংশ উত্তরদাতার মতামত হল গুরুতর মানসিক অসুখে আক্রান্ত একজন মানুষ চিকিৎসার সাহায্যে তার সমস্যা দূর করে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে পারেন।

বিভিন্ন মানসিক অসুখের চিহ্ন ও লক্ষণগুলোর বিষয়ে নানা তথ্য প্রচার করা একান্ত আবশ্যক। তবে এক্ষেত্রে গুরুতর মানসিক অসুখ যেমন- স্কিৎজোফ্রেনিয়া এবং বর্ডারলাইন পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার (বর্ডারলাইন ব্যক্তিত্ব বিকার) এবং কম গুরুত্বপূর্ণ মানসিক অসুখ যেমন- অবসাদ ও উদ্বেগের মতো প্রচলিত সমস্যাগুলোর মধ্যে পার্থক্য করা প্রয়োজন।

  • মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যার বিষয়ে সচেতনতা কীভাবে বাড়ানো যায় সেই বিষয়ে আরও জানুন এখানে। এখানে|
  • মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যার ক্ষেত্রে কীভাবে কলঙ্কের বোধ কমানো যায় সেই বিষয়ে আরও জানুন এখানে। এখানে।
  • ভারতে মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে কলঙ্কের বোধ কীভাবে চিকিৎসা করানোর ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, সেই বিষয়ে আরও জানুন এখানে। এখানে।
X